অপরিচিত প্রতিভা

 অপরিচিত প্রতিভা

সে জন্মেছিল মঞ্চের জন্য,

চোখের ভাষায় বলত গল্প,

অভিনয়ের ভঙ্গিমায় সৃষ্টি করত নতুন জীবন।

আলো-অন্ধকারের খেলায় সে হয়ে উঠত কখনো রাজা,

কখনো ভিখারি,

আবার কখনো নিঃসঙ্গ প্রেমিক।

কিন্তু সমাজ?

সমাজ তাকে চিনল না।

তার কণ্ঠের গভীরতা,

তার অভিব্যক্তির সূক্ষ্মতা—

সব হারিয়ে গেল কোলাহলের মাঝে।

লোকেরা দেখল মুখোশ,

অভিনয় দেখল না,

তার রক্ত-ঘাম-মিশে-যাওয়া সংলাপগুলো

কেউ শোনার সময় পেল না।

সে লড়ল—

প্রতিটি প্রত্যাখ্যানের বিরুদ্ধে,

প্রতিটি বন্ধ দরজার বিপরীতে।

একটি চরিত্র পাওয়ার জন্য

সে শত শত রাত জাগল,

আয়নার সামনে নিজেকে বারবার বদলালো,

নিজেকে নিখুঁত করে তুলল,

কিন্তু তবু কেউ দেখল না!

তার প্রতিভা রইল আড়ালে,

এক গুমোট অন্ধকারে চাপা পড়ে রইল

তার জীবনের আসল গল্প।

তবে একদিন,

একজন এল।

একজন যাকে প্রয়োজন ছিল এমন এক মুখ,

যে মুখ শুধু সংলাপ বলে না—

বরং সংলাপের মধ্যে বেঁচে থাকে।

সে দেখল, সে অনুভব করল,

সে বুঝতে পারল—

এমন প্রতিভা হারিয়ে গেলে,

অভিনয় নিজেই লজ্জিত হবে!

অভিনেতা পেল তার প্রথম বড় চরিত্র,

আলো পড়ল তার মুখে,

তার চোখের ভাষা ছুঁয়ে গেল দর্শকদের হৃদয়,

তার কণ্ঠস্বর ছড়িয়ে পড়ল মঞ্চ থেকে আর এক মঞ্চ অব্দি।

যারা একদিন তাকে চিনত না,

তারা আজ তার নাম মুখে মুখে ফেরায়।

কিন্তু সে ভুলেনি সেই দিনগুলো,

যখন সমাজ তার প্রতিভাকে অস্বীকার করেছিল।

তাই সে জানে,

একজন সত্যিকারের শিল্পী

স্বীকৃতির জন্য লড়ে,

কিন্তু স্বীকৃতি তার গন্তব্য নয়—

তার গন্তব্য শুধু শিল্পের প্রতি ভালোবাসা।

আজ সে দাঁড়িয়ে আছে আলোয়,

কিন্তু তার ছায়া সাক্ষী—

লড়াই কখনো বৃথা যায় না,

প্রতিভা কখনো হারিয়ে যায় না,

শুধু সময় তার প্রকৃত বিচারক।

কলমে : ধার্মিক

Comments

Popular posts from this blog

তুমি আমার এক অন্যরকম প্রেমের উপন্যাস

কারোর আসার কথা ছিল না

হেমন্ত আসেনি