নাবালক মন
নাবালক মন
মানুষের মধ্যে যে নাবালক অংশটি আছে, আমি তাকে অন্তরের সহিত ধন্যবাদ দিই। সে-ই তো এখনও বিস্ময়ে চেয়ে থাকে জলের ফোঁটায়, রোদ্দুরের ছায়াছবিতে, গোধূলির সোনার রেখায়। সে-ই তো নরম মাটিতে খালি পায়ে হাঁটতে গিয়ে শিহরিত হয়, নদীর কলতানে গান খুঁজে পায়, বাতাসের অলিখিত ভাষা বোঝে।
সে-ই তো ভালোবাসার প্রথম স্পর্শে কেঁপে ওঠে, স্বপ্ন দেখে রঙিন, কল্পনায় আঁকে দূরাগত কুহকের দেশ। সে-ই তো ভুল করে, আবার হেসে ফেলে, কান্নার মধ্যে লুকিয়ে রাখে শিশিরের মতো নরম এক সান্ত্বনা। সে-ই তো চাঁদের আলোয় কাগজ ভিজিয়ে কবিতা লেখে, বৃষ্টির দিনে কাদামাটিতে খেলে, রঙিন প্রজাপতির পেছনে ছুটতে ছুটতে সময় হারিয়ে ফেলে।
আমি সেই নাবালক মনকে ধন্যবাদ দিই, কারণ তারই জন্য পৃথিবী এত মিষ্টি, এত কোমল, এত স্বপ্নময়। যদি সে না থাকত, জীবন শুধু নিয়মের বাঁধনে বাঁধা পড়ত, হিসাবের খাতায় বন্দি হত সব অনুভূতি। কিন্তু সে-ই তো রঙ মাখে, গান বাঁধে, ছুটে যায় সূর্যের আলো ছুঁতে, তারই জন্য আমরা এখনও প্রেমে পড়ি, এখনও কবিতা লিখি, এখনও বৃষ্টি ভেজায় আমাদের হৃদয়।
তাই মানুষ, তুমি যত বড় হও না কেন, তোমার ভেতরের শিশুটিকে বাঁচিয়ে রেখো। সে-ই তোমার জীবনকে মিষ্টি করে রাখবে, সে-ই তোমার স্বপ্নের রংকে উজ্জ্বল রাখবে।
কলমে : ধার্মিক
Comments
Post a Comment