Posts

Showing posts from 2025

।। তুমি কি আমার হবে?।।

Image
 ।। তুমি কি আমার হবে?।। তুমি কি আমার একাকিত্বের সঙ্গী হবে? যখন রাত গভীর হবে, নক্ষত্ররা নিঃশব্দে আমার জানালার পাশে বসে থাকবে, তখন তুমি কি আমার পাশে থাকবে? নিঃশব্দে, মৃদু হাসিতে, আমার একাকিত্বের মধ্যে আলো হয়ে? তুমি কি আমার জ্যোৎস্না রাতের গল্প হবে? সেই নরম, সাদা আলোয় যখন পৃথিবী আবছা হয়ে আসে, তখন তুমি কি আমার হৃদয়ের গভীর অনুভূতিগুলো শুনবে? আমার স্বপ্নগুলো কি তোমার কাছে নিরাপদ আশ্রয় পাবে? তুমি কি আমার প্রিয় হবে? যার নাম উচ্চারণ করলেই আমার ভেতরটা কেঁপে উঠবে এক মিষ্টি কম্পনে? যার চোখের এক চিলতে ভালোবাসাই আমার সমস্ত ক্লান্তি মুছে দেবে? ভালোবাসায় জড়িয়ে নেবে? ঠিক সেইভাবে, যেভাবে সন্ধ্যার আকাশ ভালোবেসে সূর্যকে লাল রঙে মুড়ে দেয়? আমি তোমার উষ্ণতার মধ্যে হারিয়ে যাব, তুমি কি আমাকে অনুভব করতে পারবে? তুমি কি আমার ব্যক্তিগত মানুষ হবে? যে আমাকে বোঝে, আমার খুনসুটি, অভিমান, আনন্দ—সবটুকুকে আপন করে নেয়? যার কাছে আমি একান্তই আমার মতো থাকতে পারি, যে আমাকে বদলাতে চায় না, বরং আমাকে আরও গভীরভাবে ভালোবাসতে শেখায়? তোমার সব অধিকার আমায় দেবে? তোমার হাত, তোমার হৃদয়, তোমার সমস্ত অনুভূতির একমাত্র দাবিদার কি আমাকেই ...

মুখস্থবিদ্যার চোরাবালি

Image
 মুখস্থবিদ্যার চোরাবালি মুখস্থ করে পাস করাই তো চৌর্যবৃত্তি! একজন লুকিয়ে আনে বই, আরেকজন লুকিয়ে আনে শব্দ, একজন ধরা পড়ে, আরেকজন প্রশংসিত হয়। কিন্তু সত্যিকার শেখা কোথায়? কোথায় চিন্তার আলো? শুধু গিললেই কি জ্ঞানী হওয়া যায়? শুধু মনে রাখলেই কি বোঝা হয়ে যায়? বইয়ের পাতাগুলো মুখস্থ করে যে এগিয়ে চলে, সে কি জানে, সে আসলে এগোচ্ছে না— বরং পিছু হটছে এক অন্ধ গলিপথে! শিক্ষা কি শুধু কিছু শব্দের শৃঙ্খল? নাকি সে মুক্তির গান, উন্মুক্ত আকাশের ডানা? যে শেখে বোঝার জন্য, সে-ই তো সত্যিকারের শিক্ষার্থী, যে মুখস্থ করে কেবল নম্বরের লোভে, সে তো কেবল এক দক্ষ চোর! দেখো নদীকে— সে মুখস্থ করে না পথ, সে নিজের ছন্দে গড়ে নেয় গন্তব্য। দেখো বাতাসকে— সে মুখস্থ করে না দিক, সে অনুভব করে চলার আনন্দ। তবে কেন শেখা হবে রুদ্ধ, কেন শেখা হবে মুখস্থের শেকলে বাঁধা? শেখো বোঝার জন্য, শেখো নতুন পথ গড়ার জন্য। মুখস্থ বিদ্যা একদিন হারিয়ে যাবে, কিন্তু যা সত্যি বুঝেছো, তা থাকবে চিরদিন, তোমার আলো হয়ে, তোমার দিকনির্দেশ হয়ে। কলমে : ধার্মিক

কৃষ্ণচূড়া নেই

Image
  কৃষ্ণচূড়া নেই বসন্ত এসেছে, ধুলোবালি মেখে রঙিন হয়ে উঠেছে পৃথিবী।  আমার উঠোনে কোকিলের ডাক, আম্রকুঞ্জের মিষ্টি গন্ধ, বাতাসে উড়ে আসা কৃষ্ণচূড়ার কল্পনা। তবু,  আমার আঙিনায় কৃষ্ণচূড়া নেই। তুমি কি জানো, কৃষ্ণচূড়ার অভাব কতটা ব্যথার? বসন্তের আকাশ যখন আগুন রঙে রাঙে, তখন আমার  বুকের ভেতর শূন্যতা বাজে।  যেন তুমি আছো, তোমার হাসি আছো, অথচ তোমার হাত নেই আমার হাতে। কোকিলের গানে যে তৃষ্ণা জাগে, সে তৃষ্ণা মেটে না, যদি কৃষ্ণচূড়া না ফোটে। প্রেমের মতোই তো, শুধু  শব্দে, শুধু গন্ধে কি সম্পর্ক পূর্ণ হয়? ছোঁয়া লাগে, চোখের চাহনি লাগে, লাগে একসঙ্গে বসে থাকা  কৃষ্ণচূড়ার ছায়ায়। তুমি কি আসবে একদিন? আমার উঠোনে, যেখানে বসন্ত এসে দাঁড়িয়েছে একা? তুমি কি আমার জন্য  একগাছি কৃষ্ণচূড়া এনে দেবে? বলবে, “নাও, এ তোমার বসন্তের রং।” আমি সেই লালে আমার ভালোবাসা  রাঙিয়ে দেবো। তখন হয়তো বসন্ত সম্পূর্ণ হবে। কোকিল ডাকবে, বাতাসে উড়বে কৃষ্ণচূড়ার পাপড়ি, আর আমি তোমার  হাত ধরে বলব— এখন আমার বসন্ত পূর্ণ, এখন আমার কৃষ্ণচূড়া ফুটেছে। কলমে : ধার্মিক

শব্দহীন সংলাপ

শব্দহীন সংলাপ ভেবেছিলাম তোমাকে নিয়ে উপন্যাস লিখবো— পাতায় পাতায় সাজিয়ে তুলবো আমাদের সমস্ত সংলাপ, তোমার বলা-না-বলা কথা, আমার শোনা-না-শোনা প্রতিধ্বনি। কিন্তু তুমি এলেও, একটা দীর্ঘ নীরবতা রেখে গেলে বুকের ভেতর। শব্দরা এলোমেলো হয়ে ছড়িয়ে পড়লো বাতাসে, কলমের ডগায় জমে রইলো অপেক্ষা, আর আমি রইলাম শব্দহীন— ঠিক যেমন করে তুমি চলে গেলে তোমার চোখের গভীরতা ছুঁয়ে দেখার আগেই তুমি উধাও হলে নিস্তব্ধতার দূর সমুদ্রে। আমার সমস্ত উপমা, অলংকার, রূপক— তোমার পায়ের ধুলোয় লুটিয়ে পড়লো। বাক্য তৈরি হওয়ার আগেই তুমি টেনে নিলে তার শ্বাস। আমি এখনও খুঁজি— তোমার রেখে যাওয়া একটুখানি প্রতিধ্বনি, একটা অসমাপ্ত প্রশ্ন, একটা ভাঙা বাক্য, যা দিয়ে নতুন করে শুরু করা যায়। কিন্তু তোমার নীরবতা এতটাই গভীর, যেখানে শব্দেরা হারিয়ে যায়, সেখানে ভাষা বোবা হয়ে পড়ে। ভেবেছিলাম তোমাকে নিয়ে উপন্যাস লিখবো, কিন্তু আজ বুঝি, তুমি আমাকে দিয়ে কাব্য লিখিয়ে নিলে। শব্দহীন এক সংলাপ, যার প্রতিটি স্তবক নীরবতার চেয়েও ভারী। কলমে : ধার্মিক

শব্দের বিষ

Image
শব্দের বিষ এই সংসারে মানুষই একমাত্র প্রাণী, যার বিষ লুকিয়ে থাকে শুধু দাঁতে নয়, তার শব্দেও, তার কণ্ঠেও, তার ভাষাতেও। সাপের বিষ শরীরে ঢোকে, মানুষের বিষ প্রবেশ করে মনের গভীরে, ধীরে ধীরে গিলে খায় সমস্ত বিশ্বাস, সমস্ত ভালোবাসা, সমস্ত শান্তি। একটা মাত্র তির্যক বাক্য ভেঙে দিতে পারে একটা জীবন, একটা অবজ্ঞার শব্দ নির্বাক করে দিতে পারে সমস্ত স্বপ্ন। তুমি কি কখনো দেখেছো? শিশুর কচি মনে যখন কেউ রুক্ষ কথা বলে, সে কীভাবে নিভৃতে গুমড়ে কাঁদে? তুমি কি অনুভব করেছো? ভালোবাসার নামে বলা এক ফোঁটা তিরস্কার কীভাবে ঠেলে দেয় সম্পর্ককে অন্ধকারে? মানুষ ভাবে, শব্দ হাওয়ায় মিলিয়ে যায়, কিন্তু শব্দ তো থেকে যায় হৃদয়ের গহীনে, একটা কটূক্তি, একটা উপহাস, একটা অনাদরের শব্দ— শিকড় গেঁথে বসে রক্তে, নিঃশব্দে ঢেলে দেয় বিষ। তবু মানুষ শব্দ ছুঁড়ে মারে, বলে, "এ তো শুধু কথা!" কিন্তু সেই কথাই ছিন্নভিন্ন করে দেয় মন, নিঃশেষ করে দেয় আত্মার সমস্ত আলো। হায়! যদি মানুষ জানতো, তার শব্দের বিষই সবচেয়ে নির্মম, সবচেয়ে তীক্ষ্ণ, সবচেয়ে অমোঘ— তবে কি সে এত সহজে ছুঁড়ে মারতো তার জিহ্বার ধারালো অস্ত্র? কলমে : ধার্মিক

ভালো লাগা ভালবাসা

Image
ভালো লাগা  ভালবাসা  ভালো লাগা ভালবাসা কোনো অন্যায় নয়। এই পৃথিবীর প্রতিটি মুহূর্তে, প্রতিটি শ্বাসে কেউ না কেউ কাউকে ভালোবাসে, কারও চোখে আলো জ্বলে, কারও মনে নরম পরশ লেগে থাকে অচেনা এক আকর্ষণের। ভালো লাগা আসে বাতাসের মতো— অদৃশ্য, অথচ অনুভবযোগ্য। যেমন বিকেলের ছায়া পড়ে মুখের ওপর, তেমনই কারও উপস্থিতি হৃদয়ের আকাশ রাঙিয়ে দেয়। একটি মুখোশ, যা হাসির আড়ালে লুকিয়ে রাখে উপহাস। কারও অনুভূতির সাথে ছলনা করা, তার আশার ডালে কাঁচি চালানো, এ কি পাপ নয়? মনের দরজায় কড়া নেড়েছে ভালো লাগা, কিন্তু সে দরজা খুলতে হবে সততার হাতে। ভালো না লাগলে বলো— "আমি পারবো না," "আমার পথ আলাদা," আমার পছন্দ অন্য কোথাও "তোমার জন্য শ্রদ্ধা রইলো, কিন্তু ভালোবাসা নয়।" তাই ভালো লাগুক, ভালোবাসাও জন্ম নিক, কিন্তু সত্যের আলোয়— ভুল বোঝাবুঝির অন্ধকারে নয়। কলমে : ধার্মিক

আকাশ ও গোধূলি

Image
আকাশ ও গোধূলি তুমি বরং আকাশ হও, বিস্তৃত, অবিনশ্বর।  যেখানে মেঘেরা মুক্তির আনন্দে উড়ে বেড়াবে, আলো-আঁধারির খেলা করবে।  রৌদ্রস্নাত দুপুরে নীল রঙের গভীরতায় ডুব দেবে, আবার কখনো গর্জন করে ঝরাবে বৃষ্টিধারা।  তুমি হবে অসীম, যেখানে দিগন্ত হারিয়ে যায়, যেখানে পাখিরা ফিরে আসে দিনের শেষে। আর আমি? আমি হবো গোধূলি।  সূর্য যখন ক্লান্ত হয়ে অস্ত যাচ্ছে, তার শেষ আভায় রাঙিয়ে দেব পৃথিবী।  হালকা কমলা, লাল আর বেগুনির ছায়ায় আমি রঙিন হয়ে উঠবো—মৃদু, কোমল, কিছুটা বিষাদে মাখা। তোমার নীলের মধ্যে আমি মিলিয়ে যাবো, যেমন সন্ধ্যার আলো মিশে যায় রাতের গহ্বরে। তুমি থেকে যাবে দিনভর, আর আমি আসবো কিছু মুহূর্তের জন্য, নিছক সন্ধেবেলা।   তবু, আমাদের ছোঁয়া লাগবে একে অপরের গায়ে, হঠাৎ, অন্যমনস্কভাবে।   হয়তো মেঘের শরীর ছুঁয়ে সূর্যের শেষ আলো তোমাকে জানিয়ে দেবে আমার উপস্থিতি।  হয়তো একদিন গোধূলিও আকাশের অংশ হয়ে উঠবে। কলমে : ধার্মিক

পাহাড় ও সমুদ্রের আত্মাকথা

Image
পাহাড় ও সমুদ্রের আত্মাকথা আমি দাঁড়িয়ে থাকি পাহাড়ের চূড়ায়, নিরবতার গভীরে শোনার চেষ্টা করি— পাথরের বুকের গভীরে কীসের কান্না? কোনও এক আদিম সময় থেকে সে জেগে আছে, গভীর ধ্যানমগ্ন যোগীর মতো, নিঃসঙ্গ অথচ দৃঢ়, ঝড়-জল-রোদের খেলা সহ্য করে চলেছে নিরবধি। সমুদ্র আমায় ডাকে নীচে, তার ঢেউয়ের ভাষা বোঝার চেষ্টা করি, কখনও তা হাসি, কখনও তা রুদ্রতা, কখনও প্রেমের গোপন আলিঙ্গন। সে পাহাড়ের দিকে চেয়ে বলে— "তুমি কেন এত নীরব? আমি তো ক্লান্তিহীন, উচ্ছ্বসিত, উন্মত্ত, আমি আসি, ছুটে যাই, হারিয়ে যাই— কিন্তু কখনও থামি না!" পাহাড় হেসে ওঠে ধীর সুরে, "তোমার বুকে আছে অস্থিরতা, আর আমার বুকে আছে ধৈর্য। তুমি ছুটতে পারো, আমি দাঁড়িয়ে দেখি। তুমি বদলে যাও প্রতি মুহূর্তে, আমি বদলাই সহস্র বছরে। আমরা আলাদা, অথচ এক, প্রকৃতির দুই বিপরীত স্পন্দন।" আমি চুপ করে থাকি, এই দুই মহাশক্তির সংলাপ শুনতে শুনতে, নিজেকেও কখনও পাহাড়, কখনও সমুদ্র মনে হয়। আমিও তো জীবনকে কখনও নীরবে বহন করি, আবার কখনও ঢেউয়ের মতো ভেঙে পড়ি— আবার জেগে উঠি নতুন করে। কলমে : ধার্মিক

নীরবতার শাস্তি

নীরবতার শাস্তি আমি কিছু লিখলেই, তারা চুপ। একটা লাইক, একটা কমেন্ট? সেটাও যেন রাজ্যের খাজনা, দিতে কুণ্ঠা, দিতে দ্বিধা, মনে হয়—আমি বুঝি তাদের জমিজমা লিখে নিয়েছি! তাদের চোখে আগুন, তাদের মনে ঈর্ষার নোনা হাওয়া। কিন্তু মুখে তালা, আঙুল স্থির— কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। আমি লিখি ভালোবাসার কথা, তারা ভাবে—নিজেদের হারানোর গল্প। আমি লিখি স্বপ্নের কথা, তারা ভাবে—এ স্বপ্ন কেবল আমার কেন? তাই তারা চুপ, তাদের রাগ আছে, কিন্তু মুখ নেই। তাদের এই নীরবতা, একটা অলিখিত যুদ্ধ। তবু আমি থামি না, আমি লিখি, আমি বলি, আমি গড়ি। কারণ শব্দই আমার অস্ত্র, আর তাদের নীরবতাই আমার জয়! কলমে : ধার্মিক

হার-জিতের খেলা

হার-জিতের খেলা জীবন হেরে যায় মৃত্যুর কাছে, শ্বাস থেমে যায়, পথ থেমে আছে। স্বপ্নরা থেমে যায় নিঃশব্দ রাতে, সময় দাঁড়িয়ে হারে চিরকালতাতে। সুখ হেরে যায় দুঃখের তীরে, হাসির আড়ালে কান্না যে ঘুমিয়ে। আলোর পাশে দাঁড়ায় অন্ধকার, এক পা এগোলে, পিছু ডাকে হাহাকার। ভালোবাসা হেরে যায় অভিনয়ের ফাঁদে, মিথ্যের আড়ালে আবেগও কাঁদে। চোখের জল মুছে হাসির মুখোশ, কেউ বোঝে না, হৃদয়ে রয়ে যায় দোষ। বন্ধুত্ব হেরে যায় অহংকারের বাঁধনে, শূন্যতা গড়ে দেয় দূরত্বের আগুনে। যে হাত ছিলো একদিন কাঁধে, আজ সে হাত খুঁজে ফেরে ছায়াতে। তবু কি জীবন থেমে যায় হেরে? নতুন ভোর আসে, নতুন আলো ফেরে। হারিয়ে গেলেও, স্বপ্নেরা জাগে, নতুন পথে জীবন আবারও লাগে। জীবন হারলেও, গল্পটা বেঁচে, সুখ মুছলেও, আশার প্রদীপ আছে। ভালোবাসা ভাঙলেও, প্রেম আবার জাগে, বন্ধুত্ব ছিন্ন হলেও, স্মৃতিরা থাকে! কলমে : ধার্মিক

সংগীত ও বাদ্যযন্ত্র

Image
সংগীত ও বাদ্যযন্ত্র সংগীত জন্ম নেয় মনের গভীরতম অনুভূতি থেকে, আর বাদ্যযন্ত্র তার ভাষা হয়ে ওঠে। তারা যেন একে অপরের পরিপূরক—যেমন নদী ও তার স্রোত, যেমন বাতাস ও তার গান। শব্দের সীমার বাইরে, যেখানে অনুভূতির তরঙ্গ স্পন্দিত হয়, সেখানে সংগীত কথা বলে, আর বাদ্যযন্ত্র হয়ে ওঠে তার কণ্ঠস্বর। সেতার যখন বুকে ধারণ করে রাগের রং, তবলা তার ছন্দে গড়ে তোলে জীবনের গতি। বাঁশির সুরে মিশে যায় এক আকাশ নীল ভাবনা, আর বেহালার করুণ মূর্ছনায় নেমে আসে সন্ধ্যার বিষাদ। কখনো তারা মিলেমিশে বাঁধে আনন্দের রঙিন মেলা, কখনো বা গাঢ় বিষাদে রচনা করে নিঃশব্দ কান্নার সুর। একটি সংগীতের হৃদয়, অন্যটি তার শিরা-উপশিরা— একটি স্বপ্ন, অন্যটি তার বাস্তবতার হাতছানি। তাই সংগীত ও বাদ্যযন্ত্র একে অপরের অস্তিত্বের গল্প, যেখানে শব্দ হয়ে ওঠে অনুভূতি, আর সুর হয়ে ওঠে জীবন। কলমে : ধার্মিক

রঙের ভাষা, হৃদয়ের ক্যানভাস

Image
রঙের ভাষা, হৃদয়ের ক্যানভাস আমি একজন চিত্রশিল্পী। আমার হাতের তুলিতে কখনো ফুটে ওঠে উজ্জ্বল দিনের আলো, কখনো অন্ধকার রাতের নির্জনতা। আমি যা দেখি, যা অনুভব করি, তা রঙের ভাষায় ফুটিয়ে তুলি ক্যানভাসে। আমার কথা হয়তো কেউ শোনে না, কিন্তু আমার ছবিগুলো কথা বলে, প্রতিটি আঁচড় যেন একেকটি অনুভূতির চিহ্ন। আমি যখন রঙ মেশাই, তখন শব্দ থেমে যায়, কেবল হৃদয়ের ভাষাই বয়ে চলে। মানুষের হাসি, কান্না, বেদনা, প্রেম—সব কিছুকে আমি রঙে বন্দি করি। আমার ক্যানভাসে কখনো ফুটে ওঠে প্রকৃতির মুগ্ধতা, কখনো সমাজের চিত্র। আমি কল্পনার সীমানা ভেঙে বাস্তবতার সাথে রঙের খেলা খেলি। তবে কখনো কখনো মনে হয়, আমার ছবি কি সত্যিই বোঝে সবাই? আমি কি শুধু সৌন্দর্য এঁকে যাই, নাকি তার মাঝে লুকিয়ে রাখি না-বলা কথার গভীরতা? কেউ হয়তো দেখে রঙের সমারোহ, কেউ খোঁজে তার আড়ালের অনুভূতি। আমি একজন চিত্রশিল্পী—আমার আত্মা রঙে কথা বলে, আমার অস্তিত্ব তুলির রেখায় বেঁচে থাকে। আমার ক্যানভাসই আমার গল্প, আর প্রতিটি ছবি আমার আত্মার প্রতিচ্ছবি। কলমে : ধার্মিক

পরাধীনতার ডিম

Image
পরাধীনতার ডিম কাকের বাসায় কোকিলের ডিম— এক নীরব প্রতারণা, এক নিঃশব্দ ছলনা। কাক ভাবে, এ তারই সন্তান, মমতার পালকে মুড়ে রাখে যত্নে, নিজের রক্তমাখা উষ্ণতা দেয় নিঃস্বার্থভাবে। কিন্তু সে জানে না, যে ডিম সে বুকের ভিতর আগলে রেখেছে, তা তার নয়, তা এক পরবাসীর ফেলে যাওয়া ছায়া। মানুষের জীবনেও কখনো কখনো এমন ছলনা এসে দাঁড়ায়। বিশ্বাসের আশ্রয়ে কেউ রেখে যায় প্রতারণার বীজ, ভালোবাসার আড়ালে কেউ লুকিয়ে রাখে স্বার্থের মুখোশ। একজন আপন ভেবে জীবন দিয়ে যায়, আরেকজন নির্বিকার থেকে তার সুবিধা নেয়। এ যেন এক অলিখিত শৃঙ্খল, যেখানে এক পক্ষ শুধু দেয়, আরেক পক্ষ নেয়। এ সম্পর্ক ভালোবাসার নয়, এ সম্পর্ক দায়িত্বহীনতার, একতরফা আত্মত্যাগের। মানুষের জীবন হোক নির্মল, সত্য ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে গড়া। যেন কেউ কারও আবেগ নিয়ে খেলা না করে, যেন কেউ অন্যের বিশ্বাসকে ঠকিয়ে নিজের স্বার্থ হাসিল না করে। যেন প্রতিটি সম্পর্ক হয় সমান দায়িত্বের, সমান ভালোবাসার— যেখানে কেউ কাক হয়ে প্রতারিত হয় না, আর কেউ কোকিল হয়ে প্রতারণা করে না। কলমে : ধার্মিক

শব্দ আমার আত্মা

Image
শব্দ আমার আত্মা আমি এক বাচিক শিল্পী, শব্দ আমার অস্তিত্ব, ধ্বনি আমার সুর। আমি গড়ে তুলি অনুভূতির মঞ্চ, যেখানে বর্ণগুলো শুধু লেখা থাকে না— ওরা কথা বলে, গান গায়, প্রাণ পায়। আমার কণ্ঠে জন্ম নেয় কবির স্বপ্ন, উঠে আসে বেদনার দীর্ঘশ্বাস, ভেসে যায় ভালোবাসার স্পর্শ, আবৃত্তির প্রতিটি সুরে ফুটে ওঠে জীবনের না-বলা গল্প। আমি শুধু পড়ি না, আমি অনুভব করি, আমি শব্দের শরীরে ঢেলে দিই হৃদয়ের রঙ, প্রতিটি লয়ের মাঝে জড়িয়ে থাকে আমার আত্মার প্রতিধ্বনি। শব্দকে আমি ছুঁয়ে দেখি, তার গভীরতা মেপে নিই, তার ব্যথা আর আনন্দকে বুনে দিই কণ্ঠের আঁচড়ে। যখন মঞ্চ আলোয় ভেসে যায়, আমার কণ্ঠে তখন বেজে ওঠে সময়ের জয়গান, মানুষের আর্তি, প্রেমের মধুরতম রাগ। আমি বাচিক শিল্পী, আমি কেবল বলি না— আমি হৃদয়কে স্পর্শ করি, আমি শব্দ দিয়ে আঁকি জীবনের প্রতিচ্ছবি। কলমে : ধার্মিক

রাজার মতো

Image
রাজার মতো যে রাজার মতো ভাবে, তার হাত কখনো শূন্য থাকে না। সময় যতই ছোবল দিক, তার মুকুট আলোয় ভরে ওঠে। সময়ের থাবায় অনেকেই নুয়ে পড়ে, কিন্তু সে মাথা উঁচু রাখে, যেমন বজ্রনির্ঘোষে পাহাড় জেগে থাকে, যেমন সমুদ্র তার উত্তাল ঢেউ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। সে জানে, হার মানা মানেই শেষ নয়, বাধা মানেই পতন নয়। সময়ের প্রবল ঝড়ে যখন সব কিছু ভেঙে পড়ে, সে তখন নীরব যোদ্ধার মতো দাঁড়িয়ে থাকে, আত্মবিশ্বাসের তরবারি হাতে। অপেক্ষা করে দিনের আলো ফোটার, অপেক্ষা করে নিজের সময়ের। কারণ সে জানে, রাজা হয় শক্তিতে নয়, রাজা হয় মানসে। তার স্বপ্নগুলো ধুলোয় গড়াগড়ি খায় না, তার সংকল্প অন্ধকারে পথ হারায় না। সে পথ গড়ে নেয় নিজের হাতে, নিজের রক্ত, ঘাম, আর অনড় বিশ্বাস দিয়ে। সময় তাকে দুর্বল করতে চায়, কিন্তু সে সময়কে শেখায়— রাজাদের দুর্বলতা বলে কিছু নেই, রাজারা শুধু অপেক্ষা করে, নিজের মুকুট নিজেই ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য। কলমে : ধার্মিক

কারোর আসার কথা ছিল না

Image
কারোর আসার কথা ছিল না কারোর আসার কথা ছিল না, কেউ আসেনি, তবু দরজার ওপাশে শুনি অকারণ হাওয়ার শব্দ, একটা অচেনা পদচিহ্নের প্রতিধ্বনি। বাতাসে কার যেন গন্ধ ভাসে, অপরিচিত অথচ চেনা, যেন অনেক দিন আগের এক বিকেলের রোদ্দুর, যা ফেলে এসেছি কোনো ভুল ঠিকানায়। কেউ ডাকেনি, কেউ জানতেও চায়নি, তবু জানালার শার্সিতে চাঁদের আলো একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে রেখে যায়। একটা ছেঁড়া স্বপ্নের মতো মন উদাস হয়ে থাকে অকারণ, অগোছালো। শূন্য ঘরে ধুলো জমেছে, পুরোনো বইয়ের পাতায় একটা চাপা গল্প লুকিয়ে আছে, যার কোনো পাঠক নেই, যার কোনো সমাপ্তি লেখা হয়নি। কারোর আসার কথা ছিল না, তবু মনে হয়, কেউ আসেনি বলেই মন খারাপ হয়ে থাকে। একা থাকা ঠিক ছিল, তবু একাকিত্ব কেন এভাবে দংশন করে? বৃষ্টির ফোঁটায় একটা পুরোনো সুর বাজে, কিন্তু কারো কণ্ঠ শোনা যায় না, শুধু নিঃশব্দ প্রতীক্ষা, শুধু এক চিলতে অভিমান। কলমে :ধার্মিক

দিশাহীনতার ঠিকানা

দিশাহীনতার ঠিকানা এ-ই তো আর কিছুক্ষণ, ওহে দিশেহারা মন! সময় কি কখনও অপেক্ষা করে? নদীর মতন বয়ে যায়, ক্ষয় হতে থাকে তীর, আর আমরা দাঁড়িয়ে থাকি মাঝপথে—দোলাচলে, দ্বিধায়। তবু থামতে পারি না, থামা মানেই তো হার! তুমি স্যাঁতসেঁতে মাটির স্বাদে খুঁজে নিও দিশা। পৃথিবী কখনও কাঁদে, কখনও হাসে। সে কখনও বিদ্রোহী, কখনও মা, কখনও প্রেমিকা। তার বুকের গভীরে চাপা পড়ে থাকে অসংখ্য গল্প—শোকের, আনন্দের, প্রতীক্ষার। শিকড়ের মতো সে আঁকড়ে ধরে তার সন্তানদের, আবার সময় এলেই বিদায়ও জানায়। দিশাহীনতার মাঝে এই মাটি, এই পৃথিবীই তো একমাত্র আশ্রয়! তুমি কি জানো, মন? যে পথ তুমি খুঁজছ, সে পথ কি আদৌ আছে? নাকি তা শুধু এক মরীচিকা? আমরা কতো দূর হাঁটি, কতো স্বপ্ন দেখি, কতো বাস্তবতা বয়ে নিয়ে চলি, তবু কেন যেন শেষ মাথায় পৌঁছাতে পারি না। পথ ফুরিয়ে আসে, কিন্তু গন্তব্য তখনও অধরা! তবু তো এগোতে হবে, পাড়ি দিতে হবে এই পার্থিব পথ। তুমি পার্থিব পথের বিবেকে ঘটা কেয়ামত ভুলে যেও। জীবন তো এক আশ্চর্য নাটক! এখানে প্রতিদিনই এক নতুন দৃশ্য, এক নতুন সংলাপ। সুখ আসে, দুঃখও আসে, আমরা মেনে নিই, মানিয়ে নিই। কিন্তু কেয়ামত? সেটাই তো আমাদের ভয়! বড় বড় শহরগুলো একদিন ম...

আমি সাধারণ

আমি সাধারণ আমি চাই না আলোটাকে নিজের দিকে টানতে, চাই না কেউ আমায় দেখে বিস্ময়ে থমকে যাক। আমি কেবল ছায়া হতে চাই, সে ছায়া, যা বিশ্রাম দেয় ক্লান্ত পথিককে, যে ছায়ায় দাঁড়িয়ে কেউ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। আমি চাই না মঞ্চের কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়ে তুমুল করতালির ঝড় তুলতে, বরং চাই, মঞ্চের বাইরে দাঁড়িয়ে একটি নাম উজ্জ্বল করতে। যার প্রতিটি পদক্ষেপে আমার হাতের ছোঁয়া থাকবে, কিন্তু কেউ তা টের পাবে না। আমি বাতাস হতে চাই, যে শ্বাস নেয়া যায়, কিন্তু ধরা যায় না। আমি চাই না কেউ আমায় মনে রাখুক, চাই আমার গড়ে তোলা স্বপ্নগুলো বেঁচে থাকুক। যারা ডানা মেলে উড়বে আকাশে, তাদের শক্তি দিতে চাই, তাদের সাহসের মাটিটা হতে চাই। আমি একদম সাধারণ হতে চাই, নিঃশব্দে কারও পথের প্রদীপ জ্বালাতে চাই। আমার পরিচয় হবে না কোনো উজ্জ্বল নামের সাথে, আমার পরিচয় থাকবে সেই চোখে, যেখানে আমি স্বপ্ন আঁকতে সাহায্য করেছি। সেই কণ্ঠে, যাকে আমি নিজের ছায়ায় বড় করেছি। আমি চাই না কেউ আমায় একদিন মনে রাখুক, আমি চাই, আমার স্পর্শে গড়ে ওঠা প্রতিভাগুলো একদিন নিজেদের আলোর গল্প লেখুক। আমি নামহীন, আমি সাধারণ, তবু আমার ছায়ায় বড় হবে অসংখ্য তারকা, আর আমি, আমি হারিয়ে য...

মূল্যহীন

মূল্যহীন কলম যতই সোনার খাপ পরুক, রত্নখচিত মোড়কে সাজুক, যদি তার ভিতরে কালি না থাকে, তবে সে মূল্যহীন। সে কোনো কবির ভাবনাকে শব্দ দিতে পারে না, কোনো প্রেমপত্রের অশ্রু হতে পারে না, কোনো প্রতিবাদের আগুন ছড়িয়ে দিতে পারে না। সে পড়ে থাকে ড্রয়ারের কোণে, সাজানোর বস্তু হয়ে—কিন্তু অর্থহীন। মানুষও তেমনি, যতই উচ্চ শিক্ষিত হোক, যদি তার হৃদয়ে বিবেক না থাকে, তবে সে এক শূন্য পাত্র। সে সনদপত্রের ভারে নুয়ে পড়ে, কিন্তু ন্যায়-অন্যায়ের হিসাব করতে জানে না। তার জ্ঞান থাকে, কিন্তু অনুভূতি থাকে না, তার কথা থাকে, কিন্তু সত্য থাকে না। সে সমাজের উচ্চ মঞ্চে দাঁড়িয়েও ছোট হয়ে থাকে, কারণ বিবেকহীন মানুষ কখনো পূর্ণতা পায় না। বিবেক ছাড়া শিক্ষা যেমন অর্থহীন, কালি ছাড়া কলমও তেমনি মূল্যহীন। তাই মানুষ হোক আলোকিত, জ্ঞানের আলোয় নয়— বিবেকের দীপ্তিতে, সত্যের উজ্জ্বলতায়। কলমে : ধার্মিক

ফুল

Image
ফুল কোনো কারণ ছাড়াই ফুল আমার ভীষণ প্রিয়।  হয়তো সে নিঃশব্দে হাসে, হয়তো তার সৌরভের ভাষা আছে, যা আমার মতো কেউ কেউ বোঝে।   কোনো অভিমান নেই, চাহিদা নেই—শুধু রং ছড়িয়ে দেওয়া, সুবাস বিলিয়ে দেওয়া তার স্বভাব।  ভোরের শিশিরে ভেজা এক টুকরো পাঁপড়ি যখন আঙুলে ধরি, মনে হয়, পৃথিবী এখনো সুন্দর আছে,  এখনো কোমলতা বেঁচে আছে কোথাও। আমি ফুল দেখি রাস্তার ধারে, বাগানে, কারো চুলে গুঁজে রাখা টুকরো সজ্জায়।  কখনো মাঠের মাঝে একাকী ফুটে থাকা বুনো ফুলের দিকে তাকিয়ে থাকি অবাক বিস্ময়ে।  ওরা যেন বলে—"তোমার হাসিও এমন অকৃত্রিম হোক, তোমার জীবনও হোক সুগন্ধে ভরা।" কেউ ফুল দেয় ভালোবাসার প্রতীক হয়ে, কেউ সাজায় পবিত্রতার প্রতীক বানিয়ে।  আমি শুধু দেখি আর ভাবি—এদের কোনো প্রয়োজন নেই ভালোবাসার প্রমাণ দিতে, এরা নিজেই ভালোবাসা।  এই ফুলই হয়তো আমার মনের সেই না-বলা কথাগুলো বলে দেয়, যা ভাষায় বাঁধা যায় না।  এজন্যই, কোনো কারণ ছাড়াই, ফুল আমার ভীষণ প্রিয়। কলমে : ধার্মিক

অনাসক্ততার রঙ

Image
অনাসক্ততার রঙ কাজ করো, হৃদয়ে আলো জ্বেলে, কিন্তু আকাঙ্ক্ষার শেকলে বাঁধা পড়ো না। স্রোতের টানে ভেসে চলো, কিন্তু জলকে মুঠোবন্দি করতে যেও না। সূর্য ওঠে, অস্ত যায়, আকাশ বদলায় রং, কিন্তু সে কি কখনও বলে— "আজ একটু কম আলো ছড়াই"? সে শুধু দেয়, নেই কোনো প্রত্যাশা, নেই কোনো ক্লান্তি। তুমিও সেই আলোর মতো হও, তোমার কাজ তোমার উপাসনা, কিন্তু ফলের বোঝা যেন কাঁধে না চাপে। ফুল যেমন সুবাস ছড়ায়, কিন্তু কাউকে ধরে রাখে না, তোমার সৃষ্টি তেমনই হোক— নিঃশর্ত, নিরাসক্ত। যে ভালোবাসা নিজের অস্তিত্ব ধরে রাখার জন্য নয়, সেই ভালোবাসাই শুদ্ধ। যে পরিশ্রম প্রতিদানের আশায় নয়, সেই পরিশ্রমই সত্য। তাই কাজ করো, অনাসক্তভাবে, অনাগ্রহভরে নয়। যেন বাতাসের মতো— যে আসে, যায়, ছুঁয়ে থাকে, কিন্তু বাঁধা পড়ে না কখনও। কলমে : ধার্মিক

না থেকেও কেউ কেউ থেকে যায়

Image
না থেকেও কেউ কেউ থেকে যায় না থেকেও কেউ কেউ থেকে যায়। অভিমানে জমে থাকা একাকীত্বের মতো, অপ্রকাশিত চিঠির ভাঁজে লুকিয়ে থাকা শব্দের মতো। প্রতিদিনের সূর্যোদয় আর অস্তাচলের মাঝখানে একটা ফাঁকা চেয়ার পড়ে থাকে— যেখানে সে বসতো এককালে, যেখানে গল্প জমতো, যেখানে নিঃশব্দে হাত ধরা হয়ে যেতো। না থেকেও কেউ কেউ থেকে যায়, অপেক্ষার অলিখিত পাতায়, পরিচিত পারফিউমের ঘ্রাণে ভেসে আসে  স্মৃতি, যা ভুলতে চেয়েও ভুলে যাওয়া যায় না। হঠাৎ করেই রাস্তার মোড়ে, বইয়ের পুরোনো পৃষ্ঠায়, কিংবা কোনো অচেনা শহরের কফিশপে— তার ছায়া পড়ে যায়, তার অনুপস্থিতি উপস্থিত হয়ে ওঠে। কেউ কেউ থেকে যায়, আক্ষেপের দীর্ঘশ্বাস হয়ে, কখনো অসমাপ্ত গান হয়ে, কখনো ভেজা চোখের সন্ধ্যা হয়ে। তারা আর ফিরে আসে না, তবু রয়ে যায়— হৃদয়ের গোপন অলিন্দে,  সময় থমকে থাকা কিছু মুহূর্তের গভীরে। কলমে : ধার্মিক

নাবালক মন

নাবালক মন মানুষের মধ্যে যে নাবালক অংশটি আছে, আমি তাকে অন্তরের সহিত ধন্যবাদ দিই। সে-ই তো এখনও বিস্ময়ে চেয়ে থাকে জলের ফোঁটায়, রোদ্দুরের ছায়াছবিতে, গোধূলির সোনার রেখায়। সে-ই তো নরম মাটিতে খালি পায়ে হাঁটতে গিয়ে শিহরিত হয়, নদীর কলতানে গান খুঁজে পায়, বাতাসের অলিখিত ভাষা বোঝে। সে-ই তো ভালোবাসার প্রথম স্পর্শে কেঁপে ওঠে, স্বপ্ন দেখে রঙিন, কল্পনায় আঁকে দূরাগত কুহকের দেশ। সে-ই তো ভুল করে, আবার হেসে ফেলে, কান্নার মধ্যে লুকিয়ে রাখে শিশিরের মতো নরম এক সান্ত্বনা। সে-ই তো চাঁদের আলোয় কাগজ ভিজিয়ে কবিতা লেখে, বৃষ্টির দিনে কাদামাটিতে খেলে, রঙিন প্রজাপতির পেছনে ছুটতে ছুটতে সময় হারিয়ে ফেলে। আমি সেই নাবালক মনকে ধন্যবাদ দিই, কারণ তারই জন্য পৃথিবী এত মিষ্টি, এত কোমল, এত স্বপ্নময়। যদি সে না থাকত, জীবন শুধু নিয়মের বাঁধনে বাঁধা পড়ত, হিসাবের খাতায় বন্দি হত সব অনুভূতি। কিন্তু সে-ই তো রঙ মাখে, গান বাঁধে, ছুটে যায় সূর্যের আলো ছুঁতে, তারই জন্য আমরা এখনও প্রেমে পড়ি, এখনও কবিতা লিখি, এখনও বৃষ্টি ভেজায় আমাদের হৃদয়। তাই মানুষ, তুমি যত বড় হও না কেন, তোমার ভেতরের শিশুটিকে বাঁচিয়ে রেখো। সে-ই তোমার জীবনকে মিষ্টি করে রাখবে, স...

ন্যাড়া দুই বার বেলতলায় যায় না

ন্যাড়া দুই বার বেলতলায় যায় না কিন্তু আমি যাই। বারবার যাই। গাছের তলায় দাঁড়িয়ে বাতাসের সঙ্গী হই। হাত বাড়িয়ে ধরতে চাই সেই পুরনো শাখা, যে শাখায় আমার ছেলেবেলা দোল খেয়েছে। আমি গাছ ধরে ঝাঁকাই। পাতারা ফিসফিস করে ওঠে, বাতাস কানে কানে বলে— "তুই তো এলি, কিন্তু সময় এল কি?" আমি মাথা নাড়ি। সময়ের জন্য অপেক্ষা করলে গাছের ছায়া বদলে যায়, পাতারা ঝরে যায়, নতুন শাখা গজিয়ে ওঠে, কিন্তু আমি একই থেকে যাই। ন্যাড়া দুই বার বেলতলায় যায় না, কিন্তু আমি ন্যাড়া নই। আমি ফিরে আসি পুরনো চোরাগলি ধরে, আমি স্পর্শ করি শেকড়, আমি শুনতে চাই মাটির কথা। গাছ কাঁপে, একটা বেল মাটিতে পড়ে, আমি হাত বাড়িয়ে ধরি। সময়ের হাতে সময় ধরা পড়ে কি? আমি জানি না। শুধু জানি, আবারও আসব বেলতলায়, গাছ ধরে ঝাঁকাব। কলমে : ধার্মিক

আমি কিছুই হতে চাইনি

আমি কিছুই হতে চাইনি আমি আলো হতে চাইনি, কারণ আলোয় থাকে প্রতিফলন, সেই প্রতিফলন মিথ্যে রঙে ঢেকে দেয় আসল আমি। আমি ছায়াও হতে চাইনি, কারণ ছায়া টেনে নেয় অন্ধকারের শিকড়, নিঃশব্দে বিলীন হয়ে যায় গভীর শূন্যতায়। আমি হতে চেয়েছি এক টুকরো হাওয়া, যে ছুঁয়ে যাবে অনায়াসে, বন্দি হবে না কোনো আয়নায়, ঢেকে দেবে না কোনো আলো কিংবা অন্ধকারে। আমি হতে চেয়েছি প্রবাহিত নদী, যার নেই কোনো গন্তব্য, নেই কোনো বাধা, শুধু চলতে থাকা, ছুঁয়ে যাওয়া পাথর, কূল, বাতাস, আর সময়কে। আমি হতে চেয়েছি শব্দহীন স্পর্শ, যার অস্তিত্ব টের পাওয়া যায় হৃদয়ের গভীরে, কিন্তু যা ছুঁয়ে দেখার সাধ্য নেই কারও। আমি কিছুই হতে চাইনি, তবু রঙ মেখেছে জীবন, আলো-ছায়ার খেলায় আমি হয়েছি এক অদৃশ্য উপস্থিতি, যাকে খুঁজে পায় না কেউ— তবু যে আছেই। কলমে : ধার্মিক

নোটিফিকেশনের রাত

Image
নোটিফিকেশনের রাত মিস করলে যদি নোটিফিকেশন যেতো, তাহলে রাত জাগা পাখিরা আরেকটু কম নিঃসঙ্গ হতো। আমার প্রতিটি শ্বাসের শব্দে তোমার ফোনে ঝনঝন করে উঠতো একটি ছোট্ট কম্পন, তুমি হয়তো বিরক্ত হয়ে সাইলেন্ট করে রাখতে, তবু অলক্ষ্যে চোখ চলে যেতো সেই ক্ষুদ্র আলোর দিকে— কে যেন ডাকে, কে যেন খোঁজে, কোনো একটা ফাঁকফোকর দিয়ে পৌঁছে যায় অপেক্ষার রেশ। তুমি যদি জানতে, প্রতিটি না বলা কথা একটি অনুপস্থিত নোটিফিকেশনের মতো ঝুলে আছে, যে কথা মুখ ফুটে বলিনি, তা কি কখনো পপ-আপ হয়ে ভেসে উঠবে? "তোমার কথা মনে পড়ছে"— যদি তা স্ক্রিনের কোণে জ্বলে উঠতো, তবে কি তুমি সেই মেসেজ ওপেন করতে? ঘুম ভেঙে গেলে দেখি, নোটিফিকেশন বার একেবারে খালি। তুমি কিছুই মিস করোনি, তাই আমার অপেক্ষাও কোনো শব্দ করেনি। শুধু রাতের নিস্তব্ধতা মনে করিয়ে দেয়— মিস করলে যদি নোটিফিকেশন যেতো, তবে হয়তো তুমি একদিনও ঘুমোতে পারতে না। কলমে : ধার্মিক

তুমি আমার এক অন্যরকম প্রেমের উপন্যাস

Image
  তুমি আমার এক অন্যরকম প্রেমের উপন্যাস তুমি আমার এক অন্যরকম প্রেমের উপন্যাস — যে উপন্যাসের কোনো শেষ পাতা নেই তুমি এক অসমাপ্ত গল্প, যেখানে প্রতিটি শব্দ কেবল শুরু, কিন্তু শেষ কোথায়, তা জানা নেই আমারও। তোমার হাসির মধ্যে লুকিয়ে থাকে অক্ষরের সুর, তোমার নীরবতা হয়ে ওঠে গভীর কোনো কবিতার উপমা। তুমি আমার প্রতিটি দিনের শুরুর পঙক্তি, রাতের শেষভাগে অলিখিত স্বপ্ন। তোমার ছোঁয়ায় জেগে ওঠে সব মৃত ভাষা, তুমি আসলে শব্দের চেয়েও বেশি কিছু— তুমি অনুভূতির সেই সুর, যা হৃদয়ের গহীনে বাজে। এই উপন্যাসে কোনো দুঃখ নেই, তবুও বৃষ্টির দিনে কিছু পাতা ভিজে যায়, অভিমান জমে থাকে কালো কালির ফাঁকে ফাঁকে, যেন কোনো এক সন্ধ্যার কুয়াশায় হারিয়ে যাওয়া চিঠি। তুমি আমার এমন এক অধ্যায়, যেখানে ভোর মানেই নতুন গল্পের সূচনা, আর সন্ধ্যা মানে কোনো না বলা কথার অপেক্ষা। তুমি আছো প্রতিটি লাইনে, প্রতিটি যতিচিহ্নে, তোমার নিঃশ্বাসের গন্ধ লেগে থাকে আমার প্রতিটি কবিতায়। তুমি এমন এক উপন্যাস, যার কোনো শেষ পাতা নেই, কারণ ভালোবাসার কোনো সমাপ্তি হয় না। তুমি লেখা হতে থাকো অনন্ত কাল, তুমি থেকে যাও প্রতিটি শব্দের মধ্যে, আমি প্রতিদিন নতুন করে তোমাকে পড়ি...

কল্পনার চেয়ে সুন্দর

Image
কল্পনার চেয়ে সুন্দর কল্পনার চেয়ে সুন্দর কোনো দৃশ্য নেই, সেখানে গাছেরা কথা বলে, নদী গান গায়, হাওয়া ছুঁয়ে যায় নরম তুলোর মতো, আর মানুষের মুখে থাকে অনাবিল হাসি। সেই দেশে কেউ কারও শত্রু নয়, স্বপ্নগুলো হারিয়ে যায় না কোনো অন্ধকারে, বৃষ্টি নেমে আসে শুধু আনন্দের ধারা হয়ে, রোদের ঝিলিকে ঝলমল করে সোনালি বিকেল। শিশুরা কাঁদে না ক্ষুধায়, ভয়ে, কারও চোখে থাকে না ক্লান্তির ছাপ, কেউ কাউকে কষ্ট দেয় না, বুক ভরে নিঃশ্বাস নেয় ভালোবাসার হাওয়ায়। এই শহরে শব্দ নেই হাহাকারের, শুধু পাখিদের কলতান, মানুষের হাসির সুর, একটা স্পর্শ মানে বিশ্বাস, একটা কথা মানে ভালোবাসা। কল্পনার দেশেই আমরা সত্যি সুখী, যেখানে কোনো গ্লানি নেই, নেই কোনো দুঃখের রং, শুধু আনন্দের মেঘ, শান্তির আলো, আর এক টুকরো রঙিন স্বপ্ন— যা একদিন সত্যি হয়ে উঠবে! কলমে : ধার্মিক

অপেক্ষার চেয়ার

Image
অপেক্ষার চেয়ার সবুজ অরণ্যের গভীরে, যেখানে আলো আর ছায়ার খেলা চলে নিরবধি,  সেখানে একা দাঁড়িয়ে আছে একটি চেয়ার।  কাঠের গায়ে সময়ের দাগ, বয়সের চিহ্ন।  ঝরে পড়া পাতারা এসে আশ্রয় নেয় তার বুকে, যেন তারা জানে—এই চেয়ার অপেক্ষা করতে জানে। সামনে বয়ে চলেছে নদী। শান্ত, গভীর, শব্দহীন।  তার স্বচ্ছ জলে চেয়ারের প্রতিচ্ছবি কাঁপে হালকা হাওয়ায়।  জলের ঢেউয়ে ছড়িয়ে যায় নীরবতার সুর।  - যেন সে-ও বোঝে এই চেয়ারের প্রতীক্ষা। এই চেয়ার কি কারো জন্য অপেক্ষা করছে?  নাকি বসে থাকা স্মৃতির ভার তার কাঁধে?  হয়তো একদিন কেউ এখানে এসে বসেছিল।  হয়তো একটা গল্প শুরু হয়েছিল,- কিন্তু শেষ হয়নি।  হয়তো কেউ ফিরে আসবে, অথবা আসবে না। গভীর অরণ্যের ভিতর বাতাস ফিসফিস করে কিছু বলে,  নদীর ঢেউ এসে আলতো ছুঁয়ে যায় চেয়ারের পা।  সময় থমকে দাঁড়ায় এক মুহূর্তের জন্য, তারপর আবার বয়ে যায়। অপেক্ষা ফুরোয় না, শুধু রং বদলায়।  একদিন সবুজ পাতারা হলুদ হয়ে ঝরে যাবে, নদীর জল অন্য গল্প বহন করবে, হয়তো এই চেয়ারও  ভেঙে পড়বে সময়ের ভারে। তবুও, তার অপেক্ষা শেষ হবে কি? অরণ্যের নীরবতা জানে উত্ত...

অতীতের ছোবল

অতীতের ছোবল অতীত যখন ছোবল মারে, সাজায় স্মৃতির সারি, হৃদয় তখন ক্লান্ত ভীষণ, হৃদপিন্ড হয় ভারী। ছায়ার মতো ভেসে আসে, ফেলে আসা দিন, সুখ-দুঃখের স্মৃতি জাগে, বাজে মনের বীন। শুকনো পাতার মতো ঝরে যায় কিছু প্রহর, বুকের গহীনে জমে থাকে অব্যক্ত কষ্টের পাহাড়। যে স্বপ্নগুলো অপূর্ণ রয়ে গেলো সময়ের টানে, তারা আজও ছুঁয়ে যায় মেঘলা দুপুরের গানে। কত অজানা আবেগ, কত না বলা কথা, সময়ের স্রোতে হারিয়ে গেছে, রেখে গেছে ব্যথা। কখনো কি ফিরে আসবে তারা, রঙিন সেই দিন? নাকি শুধু রয়ে যাবে মনে, স্মৃতির এক টুকরো ঋণ? চেনা পথের ধুলোবালি আজও দেয় সাড়া, কিন্তু পা আর এগোয় না, দৃষ্টি শুধু সেখানেই পড়ে থাকে বাধা। অতীতের সেই মায়াবী হাত ডাকে বারবার, তবু ফিরতে পারি না, দিন যে বদলায় বারবার। তবে কি স্মৃতি শুধু ব্যথাই দেবে, রাখবে না আশার আলো? নতুন ভোরের কিরণ কি মুছতে পারবে বেদনাবিহ্বল কালো? হয়তো পারবে, হয়তো না—সময়ের কাছে সব দায়, অতীতের ছোবল ভুলে যেতে নতুন পথের ডাক যে রয়! কলমে : ধার্মিক

আমি কে?

Image
আমি কে? আমি নিজেই জানি না আমি কে, আর তুমি এত সহজে চিনে ফেলবে আমাকে? আমি তো প্রতিদিন বদলাই, প্রতিটা মুহূর্তে একটু একটু করে গলে যাই, নতুন রূপ নিই, নতুন রঙ মাখি, নতুন মুখোশ পরি— নাকি এই মুখোশই আমার আসল চেহারা? আমি কখনো একফোঁটা শিশির, যে সকাল হওয়ার আগেই হারিয়ে যায়, আমি কখনো একাকী পাহাড়, যে শত ঝড়-জলের মধ্যেও স্থির দাঁড়িয়ে থাকে। আমি হয়তো নদী, যে ছুটে চলে এক অনিশ্চিত মোহনার দিকে, আমি হয়তো সমুদ্রের গভীরে হারিয়ে যাওয়া একটা নামহীন ঢেউ। আমাকে কেউ বন্ধু ভাবে, কেউ ভাবে শত্রু, কেউ ভাবে পথের সঙ্গী, কেউ ভাবে কেবলই এক অচেনা মুখ। কিন্তু আমি? আমি কি সত্যিই জানি আমি কে? আমার চোখের ভাষা বোঝার চেষ্টা করো, আমার নীরবতার শব্দ শোনার চেষ্টা করো, আমার ছায়ার পেছনে দাঁড়িয়ে দেখো, আমি কেমন করে হারিয়ে যাই নিজের মধ্যেই। আমি আলো, আমি অন্ধকার, আমি সৃষ্টি, আমি ধ্বংস, আমি প্রশ্ন, আমি উত্তর— আবার কখনো শুধুই এক ফাঁকা কাগজ, যার গায়ে লেখা আছে— "আমি নিজেই জানি না আমি কে..." কলমে : ধার্মিক

আমি যত্ন করে যন্ত্রণা পালি

Image
আমি যত্ন করে যন্ত্রণা পালি আমি যত্ন করে যন্ত্রণা পালি, সযত্নে সাজিয়ে রাখি বুকের গোপন কোণে। সে বড়ো দামী—যেন কালো মখমলের বাক্সে রাখা একটুকরো জ্বলজ্বলে অশ্রুবিন্দু। যন্ত্রণা আমায় ছেড়ে যায় না, আমি-ও তাকে জড়িয়ে থাকি— ভালোবেসে, লালন করে, অন্যদের হাসির মাঝে লুকিয়ে রেখে। রোদ উঠে, বৃষ্টি নামে, নদী গড়িয়ে যায় নির্বিকার, তবু বুকের মাঝে নিঃশব্দ ঝড়, আমার যত্নে রাখা যন্ত্রণা জেগে থাকে। কখনো সে বিষ, কখনো সে অমৃত, আমি গোপনে তাকে গড়িয়ে দিই শব্দের ভিতরে, কবিতার পংক্তিতে, শিরার তন্তুতে, যেন একান্ত আমারই এক ধ্রুব নক্ষত্র। মানুষ ভাবে, আমি সুখী, আমি হাসি, আকাশের মতো উদার। তারা জানে না—আমার ভেতরে এক গভীর রাত, যেখানে আমি যত্ন করে যন্ত্রণা পালি। কলমে : ধার্মিক

লক্ষ্য কি ?

Image
লক্ষ্য কি? মহামুক্তি? আত্মতত্ত্বোপলব্ধি? নাকি সময়ের দোলায় দুলতে থাকা এক অনন্ত অন্বেষণ? আমি খুঁজি— কখনও গীতা-উপনিষদে, কখনও চর্যাপদে, মাঝেমাঝে হৃদয়ের গহীন গুহায়। মনে হয়, উত্তর কাছে আসে, আবার মিলিয়ে যায় কুয়াশার অতলে। মহামুক্তি কি একাকী নির্বাণ? নাকি শিকল ভাঙার উল্লাস? সংসার কি বন্ধন, নাকি মুক্তিরই পথ? কোন যোগসূত্রে বাঁধা আমার শ্বাস, কোন মূলসূত্রে গ্রথিত আমার সত্তা? আমি দেখি— গঙ্গার স্রোতে ভেসে যায় শত জন্মের পাপ, পাহাড়ের গায়ে বাজে শঙ্খের ধ্বনি, ঘাসের ডগায় শিশির ঝরে পড়ে, আর প্রকৃতি বলে ওঠে— "তুমি আছো, ছিলে, থাকবে।" তবু প্রশ্ন থেকে যায়— এই থাকা কি মুক্তি? নাকি মুক্তিই প্রকৃত থাকা? নিজেকে পেরিয়ে, সমস্ত দ্বিধা ছুঁড়ে ফেলে একদিন হয়তো মিলিয়ে যাবো ঐ মহাশূন্যের অনন্ত ব্রহ্মতলে। কলমে : ধার্মিক

থাক না কিছু অপূর্ণতা,

Image
 থাক না কিছু অপূর্ণতা থাক না কিছু অপূর্ণতা, সব পেয়ে গেলে, আফসোস করবো কী নিয়ে! প্রতিটা স্বপ্ন যদি পূর্ণ হতো, তবে আর স্বপ্ন কিসের? প্রতীক্ষার আকাশে নক্ষত্ররা জ্বলে, নিভে যায় আশার বাতাসে— তবু একফালি চাঁদ রেখে যায় তার আলো। আমি চাই, কিছু না-পাওয়া থাকুক, যেন সন্ধ্যার আকাশে কিছু মেঘ লেগে থাকে, যেন সমুদ্রের ঢেউয়ে অনন্ত অপেক্ষার সুর বাজে। একটি চিঠি, যা পৌঁছায়নি গন্তব্যে, একটি কথা, যা ঠোঁটের কিনারে ঝুলে থাকে— তাতেই তো গল্প তৈরি হয়, তাতেই তো কবিতার জন্ম। যদি সব প্রশ্নের উত্তর মিলে যেত, তবে জীবন আর কেমন জীবন হতো? এভাবেই তো আমরা ভালোবাসি, হারাই, খুঁজি, অপূর্ণতার ভিতরেই বেঁচে থাকার মানে খুঁজে নিই। সেই ছুঁতে না পারার আকাঙ্ক্ষাই তো আমাদের জীবন্ত রাখে, স্বপ্ন দেখায়! তাই থাক না কিছু অপূর্ণতা, যেন প্রতিটি ভোর নিয়ে আসে নতুন অপেক্ষা, যেন প্রতিটি সন্ধ্যা মনে করিয়ে দেয়— শেষ বলে কিছু নেই, সবচেয়ে সুন্দর গল্পগুলো এখনো অসম্পূর্ণ! কলমে : ধার্মিক

হেমন্ত আসেনি

Image
 হেমন্ত আসেনি শরীর রয়েছে, তবু মরে গেছে আমাদের মন আমরা হাঁটছি, কথা বলছি, হাসছি—তবু কোথাও যেন এক গভীর শূন্যতা! বুকের ভেতর জমে থাকা অভিমান, ক্লান্তি আর হাহাকারের বোঝা নিয়ে দিন পার করি। সময়ের স্রোত বয়ে যায়, অথচ হৃদয়ের নদী শুকিয়ে গেছে। হেমন্ত আসেনি এ বছর। ধানের শীষে সোনালি রং লাগেনি, শিশির বিন্দুর ছোঁয়া মেলেনি ঘাসের বুকে। শীতের আগমনী সুরও যেন রুদ্ধ হয়ে আছে কোনো অদৃশ্য দ্বারে। মাঠের ফসলের বদলে মনের জমিতে জন্মেছে হলুদ পাতা—অকালে ঝরে যাওয়া স্বপ্ন, না-পাওয়া আশার ছাই। আমাদের হাসি আজ যান্ত্রিক, ভালোবাসা কেবলই শূন্যতা। প্রেম যেন পুরোনো কবিতার ভাঁজে আটকে থাকা একটুকরো বিবর্ণ স্মৃতি। কেউ কারও দিকে তাকালেও চোখের ভাষা পড়ে না, স্পর্শের উষ্ণতা নেই। মন জেগে থেকেও মৃত হয়ে গেছে, বেঁচে থেকেও যেন মৃত্যুর ছায়া বয়ে চলেছি। কবে আসবে সেই হেমন্ত, যে রাঙিয়ে দেবে আমাদের শূন্য হৃদয়? কবে আবার ভালোবাসা ফুটবে, কবে ফিরে পাবো অনুভূতির সবুজ রং? আমরা কি পারবো জাগাতে হারিয়ে যাওয়া মন, ফিরিয়ে আনতে হারানো অনুভূতি? নাকি এই হলুদ পাতার বনেই চিরকাল আটকে থাকবে আমাদের অস্তিত্ব? কলমে : ধার্মিক

শহরের ডাক

Image
  শহরের ডাক এই শহর প্রতিটা মুহূর্তে বলে, "এখানে পড়ে আছিস কিসের আশায়? তোর জায়গা এখানে নয়, চলে আয় নগরীতে!" এ শহর জানে না ছোটো গলির একলা রাত, জানে না ঘাসফড়িঙের ডানা ঝাপটানোর শব্দ, শুনতে পায় না শুকনো পাতার মৃদু কান্না। সে চায় কাঁচের দালানের আলো, তার ইটের শরীরে নেই কোনো শেকড়ের স্মৃতি। সে শুধু বলে, "তোর স্বপ্ন বড় হোক, তোর চলার গতি বাড়ুক, তুই চলে আয় নগরীতে!" কিন্তু জানে কি শহর? আমার স্বপ্ন কুয়াশার মতো ভোরে গলে যায়, আমার পথ নদীর ধারের নরম ঘাস, আমার গতি হাওয়ার সঙ্গে মিলেমিশে থাকা। নগরীর ব্যস্ততা আমায় ডাকে, তবু আমি পড়ে থাকি এই চেনা রাস্তায়, যেখানে বিকেলের আকাশে এখনো রঙের খেলা, যেখানে রোদ পোহানো বুড়োর মুখে গল্প জমে থাকে। নগরী জানে না সাঁঝের আলোর মায়া, সে জানে নীল সিগন্যাল আর ধোঁয়ার রেখা, সে চেনে ক্লান্ত চোখ আর ব্যস্ত পায়ের শব্দ। সে বোঝে অর্থ, বোঝে লেনদেন, সে জানে সাফল্যের দামে কীভাবে বিক্রি হয় সকাল-বিকেল। তাই তো বারবার বলে, "চলে আয় নগরীতে! তুই কেন পরে আছিস এখানে?" কিন্তু এই শহরই তো আমার প্রথম ভালোবাসা, এই বাতাসই তো আমার ফেলে আসা দিনগুলোর সাক্ষী। আমি কি পারি ফেলে যেত...

"ওদের জন্য বসন্ত"

Image
 "ওদের জন্য বসন্ত" ওইযে যারা রোজ ভেঙেও আবার হেসে সামলে ওঠে, ওদের জন্যই বসন্ত একটু বেশি রঙিন হয়।  পলাশের ডালে দু-একটা ফুল বাড়তি ফোটে, যেন প্রকৃতিও জানে—ওরা ভালো থাকার যোগ্য।  ওরা দুঃখের দেয়ালে হাত রেখে স্বপ্ন আঁকে, চোখের জলে আগুন জ্বালিয়ে আলোর পথ খোঁজে। শহরের ব্যস্ত মোড়ে, গ্রামের কাদামাখা পথের ধারে, কিংবা কোনো নির্জন বারান্দায়—ওদের দেখা মেলে।  যাদের গল্প কেউ শোনে না, যাদের কান্না রাতের হাওয়ায় মিলিয়ে যায়, তারাই কিন্তু নতুন ভোরের রঙ বোনে।  আকাশে যত রোদ, বৃষ্টিতে যত সুর, নদীর যত ঢেউ—সব যেন ওদের বুক থেকে উঠে আসে। যে মা সারাদিন পরিশ্রম করে রাতের আঁধারে সন্তানের কপালে হাত রাখেন,  যে বাবা নিজের ইচ্ছে-অনিচ্ছের হিসেব না করেই সংসারের ঘড়িটাকে সচল রাখেন,  যে তরুণ স্বপ্ন দেখে আবারও উঠে দাঁড়ানোর,  যে মেয়ে নিজের স্বপ্নকে আগলে রেখে লড়াই করে প্রতিদিন—ওদের জন্যই বসন্ত আসে। বসন্ত জানে, যারা কষ্টের মধ্যে দাঁড়িয়ে থেকেও ভালোবাসতে জানে,  তারা প্রকৃতির সবচেয়ে সুন্দর রঙের দাবিদার। তাই ফাগুনের বাতাস ওদের গায়ে একটু বেশি রোদ মাখিয়ে দেয়,  কোকিলের ডাক ওদের মন ছুঁয়ে যা...

আমার মেয়ের কি হবে?

Image
  আমার মেয়ের কি হবে? পনেরো বছরের সংসার… একসঙ্গে কাটানো অসংখ্য সকাল-বিকেল-রাত… একসঙ্গে স্বপ্ন দেখা, হাত ধরে পথচলা… সবকিছু হঠাৎ করে এলোমেলো হয়ে গেলো।  সম্পর্কের সুতো ধীরে ধীরে ছিঁড়ে গেল, আর শেষমেশ পড়ে রইলো শুধু এক অদৃশ্য শূন্যতা। তুমি চলে যাবে, আমিও… দুজন দুই পথে, দুই ভিন্ন জীবন নিয়ে।  কিন্তু আমাদের সেই ছোট্ট মেয়েটা? যে এখনো বাবার কোলে মাথা রেখে ঘুমোয়, মায়ের হাত ধরে হাঁটতে শেখে? তার কী হবে? সে কি বুঝতে পারবে, কেন তার বাবা-মা একসঙ্গে থাকছে না? সে কি প্রশ্ন করবে, কেন তার আঁকানো পরিবারের ছবিতে এখন ফাঁকা জায়গা থাকবে? সে কি রাতে বাবার গল্প শুনতে চাইবে, আর সকালে মায়ের কোল খুঁজবে? তার ছোট্ট হাতদুটো যে এখনো শক্ত করে আমার আঙুল চেপে ধরে… সে কি জানে, এই আঙুলের স্পর্শ একদিন দূরের হয়ে যাবে? বিচ্ছেদ শুধু আমাদের দুজনের নয়, আমাদের মেয়ের শৈশবেরও, তার নির্ভরতারও, তার ছোট্ট পৃথিবীরও। আমরা হয়তো অভ্যস্ত হয়ে যাবো, নতুন জীবনে মানিয়ে নেবো নিজেদের। কিন্তু আমার মেয়েটা? তার শৈশব কি আর কখনো আগের মতো হবে? আমি জানি না… শুধু জানি, আমার মেয়ে কোনো দোষ করেনি, তবুও তাকে ভাগ করে দেওয়া হবে— কখনো বাবার কাছে, কখ...

নিশ্চিত এবং অনিশ্চিত

Image
 নিশ্চিত এবং অনিশ্চিত আমরা অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে যতটা চিন্তিত, কিন্তু নিশ্চিত মৃত্যু নিয়ে ততটা ভাবি না। যেন ভবিষ্যৎই আমাদের জীবনের একমাত্র সমস্যা, আর মৃত্যু? সে তো দূরের কোনো এক অন্ধকার গলি, যার পথচলা এখনো শুরু হয়নি। আমরা প্রতিদিন হিসাব কষে চলি, কত টাকা জমলো, কতটা প্রাপ্তি হলো, সাফল্যের সিঁড়িতে কতদূর উঠতে পারলাম— কিন্তু একবারও ভাবি না, যে সিঁড়ির শেষ ধাপে একদিন থেমে যেতে হবে। ভবিষ্যতের চিন্তায় আমরা রাতজাগা ক্লান্ত পথিক, অস্থিরতায় বুক ধড়ফড় করে, আগামীকাল কি হবে? পরের মাসের বিল? কর্মজীবনের অনিশ্চয়তা? স্বপ্নগুলো কি পূরণ হবে? কিন্তু মৃত্যু? সে তো এক নিশ্চিত ডাক, যার সময় লেখা নেই ক্যালেন্ডারের পাতায়, যে কড়াঘাত দেয় নিঃশব্দে, যখন আমরা ব্যস্ত থাকি আগামী দিনের পরিকল্পনায়। আমরা শিখেছি কীভাবে টাকা উপার্জন করতে হয়, কিন্তু ভুলে গেছি কীভাবে সময় উপভোগ করতে হয়। আমরা ভবিষ্যতের চিন্তায় এতটাই নিমজ্জিত, যে বর্তমানে বেঁচে থাকার শিল্পটাই ভুলে গেছি। মৃত্যু নিশ্চিত, তবুও আমরা তাকে দূরে সরিয়ে রাখি, মনে করি, এখনো সময় আছে, এখনো অনেক কিছু করার বাকি। কিন্তু একদিন, যখন সে দরজায় কড়া নাড়ে, তখন বুঝতে পারি, অনিশ্চিত ...

অপরিচিত প্রতিভা

Image
  অপরিচিত প্রতিভা সে জন্মেছিল মঞ্চের জন্য, চোখের ভাষায় বলত গল্প, অভিনয়ের ভঙ্গিমায় সৃষ্টি করত নতুন জীবন। আলো-অন্ধকারের খেলায় সে হয়ে উঠত কখনো রাজা, কখনো ভিখারি, আবার কখনো নিঃসঙ্গ প্রেমিক। কিন্তু সমাজ? সমাজ তাকে চিনল না। তার কণ্ঠের গভীরতা, তার অভিব্যক্তির সূক্ষ্মতা— সব হারিয়ে গেল কোলাহলের মাঝে। লোকেরা দেখল মুখোশ, অভিনয় দেখল না, তার রক্ত-ঘাম-মিশে-যাওয়া সংলাপগুলো কেউ শোনার সময় পেল না। সে লড়ল— প্রতিটি প্রত্যাখ্যানের বিরুদ্ধে, প্রতিটি বন্ধ দরজার বিপরীতে। একটি চরিত্র পাওয়ার জন্য সে শত শত রাত জাগল, আয়নার সামনে নিজেকে বারবার বদলালো, নিজেকে নিখুঁত করে তুলল, কিন্তু তবু কেউ দেখল না! তার প্রতিভা রইল আড়ালে, এক গুমোট অন্ধকারে চাপা পড়ে রইল তার জীবনের আসল গল্প। তবে একদিন, একজন এল। একজন যাকে প্রয়োজন ছিল এমন এক মুখ, যে মুখ শুধু সংলাপ বলে না— বরং সংলাপের মধ্যে বেঁচে থাকে। সে দেখল, সে অনুভব করল, সে বুঝতে পারল— এমন প্রতিভা হারিয়ে গেলে, অভিনয় নিজেই লজ্জিত হবে! অভিনেতা পেল তার প্রথম বড় চরিত্র, আলো পড়ল তার মুখে, তার চোখের ভাষা ছুঁয়ে গেল দর্শকদের হৃদয়, তার কণ্ঠস্বর ছড়িয়ে পড়ল মঞ্চ থেকে আর এক মঞ্চ অব্দি। যারা ...

প্রেম না হলে…

Image
  প্রেম না হলে… আশ্চর্য! আমার সাথে প্রেম হয়নি বলে তুমি পোস্টে রিএক্ট করা বন্ধ করে দেবে? একটা নীল thumbs-up কিংবা লাল হৃদয়, সেইটুকুই ছিল তোমার ভালোবাসার শেষ চিহ্ন? তুমি কি সত্যিই ভেবেছিলে, একটা লাভ রিয়্যাক্ট মানেই প্রেম? একটা কমেন্ট মানেই আত্মার সংযোগ? তবে তুমি আমাকে বোঝোনি, তবে তুমি নিজেকেই ভুল বুঝিয়েছো। আমি তো অনুভূতির জন্য পোস্ট দিইনি, আমি তো ভালোবাসার প্রমাণ চাইনি, তবে কেন এত অভিমান? প্রেম মানে কি রঙিন ইমোজির খেলা? নাকি একটু বোঝাপড়ার অপেক্ষা? রিয়্যাক্ট বন্ধ করো, কমেন্টে নীরবতা রাখো, তাতে আমার কিছুই যায় আসে না। শুধু ভাবি, তোমার অনুভূতিগুলো এতটাই হালকা ছিল? যে এক ক্লিকের দূরত্বেই সব শেষ? কলমে :  ধার্মিক

সময়ের দুঃসময়

Image
  সময়ের দুঃসময় সময়ের দুঃসময় চলছে।  প্রতিটি সকাল এক নতুন ক্লান্তি বয়ে আনে, প্রতিটি রাত এক শূন্যতার অতল গভীরে হারিয়ে যায়।  শহর ঘুম ভাঙে স্বপ্নভঙ্গের শব্দে, ইট, কাঠ, কংক্রিটের ভিড়ে আটকে থাকে মানুষ,  আর তাদের মনের ভেতর জমে ওঠে বেঁচে থাকার যন্ত্রণা। আলো-অন্ধকারের মাঝখানে দোদুল্যমান দিন।  একদিকে রোদ ঝলমলে সম্ভাবনা, অন্যদিকে দীর্ঘতর ছায়ার বিষাদ।  মানুষ ছুটে চলে রুটিনের গোলকধাঁধায়, কেউ কাজের সন্ধানে, কেউবা আশার শেষ সীমানায় দাঁড়িয়ে একফোঁটা আলো খোঁজে।  কিন্তু প্রতিবারই হারিয়ে যায় শহরের ব্যস্ততার ভেতর, হারিয়ে যায় শব্দহীন হাহাকারের গহ্বরে। স্বপ্নগুলো ভাঙতে ভাঙতে একসময় কাঁচের টুকরোর মতো ছড়িয়ে পড়ে, আর বাস্তবতা তাদের বিদ্ধ করে নির্মম শৈলীতে।  কেউ রাতের বুকে কান পেতে শোনে চাপা কান্নার ধ্বনি, কেউ আবার মুখে হাসি এঁকে নিয়ে সামনে এগিয়ে যায়, জানে না শেষ কোথায়। তবুও, অন্ধকার যতই দীর্ঘ হোক, একদিন সূর্য উঠবেই—এই আশায় মানুষ বেঁচে থাকে।  হয়তো আগামীকাল, হয়তো অনেকদিন পর, সময় আবার আলো বয়ে আনবে, স্বপ্ন নতুন করে গড়বে।  কিন্তু আজ, এখনো সময়ের দুঃসময় চলছে। কলমে : ধার্মিক...

আমি নারী, আমি শক্তি

Image
  আমি নারী, আমি শক্তি আমি পতিতা, আমি লুণ্ঠিত হই। আমি কলঙ্কিত, আমি ক্ষতবিক্ষত হই। আমি সমাজের বিধান ভোগ করি, তবু সমাজ আমায় ত্যাগ করে। আমি যদি নষ্ট হই, তবে নষ্ট করল কে? আমি যদি কলঙ্কিত হই, তবে কলঙ্কের ভাগীদার কারা? আমি যদি শুধুই শরীর হই, তবে আত্মা নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি কেন? ওরা পুরুষ— সমাজের রক্ষক, অথচ আমার সর্বনাশ করে। নৈতিকতার শিক্ষক, অথচ আমায় বিক্রি করে। বিচারের দাবিদার, অথচ আমাকেই দোষ দেয়। আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও, শেকড় হয়ে আবার দাঁড়াই। আমি জ্বলতে জ্বলতে একদিন অগ্নিশিখা হয়ে উঠব। আমার চোখের জলই একদিন ওদের ভাসিয়ে দেবে। আমি শুধুই নারী নই, আমি প্রতিবাদ। আমি শুধুই শরীর নই, আমি আত্মার শক্তি। আমি প্রকৃতি— আমাকে দাবিয়ে রাখা যাবে না!                           কলমে : ধার্মিক

পথের শিশু কোল পায় না, ধেড়ে মেয়ের টেডির বায়না

Image
  পথের শিশু কোল পায় না, ধেড়ে মেয়ের টেডির বায়না রাত গভীর হলে শহরের আলো ঝলমল করে।  বিলাসিতার পরত চাপা পড়ে না, বরং আরও স্পষ্ট হয়, যখন ফুটপাথে শুয়ে থাকা শিশুটার চোখে ঘুম আসে না।  মায়ের কোল নেই, উষ্ণতা নেই, শুধু এক চিলতে পুরোনো চাদর জড়িয়ে সে শুয়ে থাকে ধুলো মাখা রাস্তায়। ক্ষুধায় পেট চোঁচোঁ করে, কিন্তু কান্নার শক্তিটাও যেন ফুরিয়ে গেছে তার। ওপাশে বড়লোকের বাড়ির জানালা দিয়ে উঁকি দেয় অন্য এক জীবন।  ধেড়ে মেয়েটি কাঁদছে, কারণ সে আজই টেডি চাই।  দামি খেলনা, নরম তুলতুলে, তার শোবার ঘরের এক কোণে সাজিয়ে রাখার জন্য।  বাবা-মায়ের মুখে বিরক্তি, কিন্তু আদরের মেয়ের দাবি ফেলতে পারে না কেউ।  গাড়ির দরজা খুলে, ঝলমলে শপিং মলের দিকে যাত্রা শুরু হয়। ফুটপাথের শিশুটি দেখেও দেখে না। তার কোনো বায়না নেই, কোনো দাবি নেই।  সে জানে, এসব তার জন্য নয়। তার জন্য বরাদ্দ শুধুই বঞ্চনা।  শৈশব কি তবে শুধুই ধনীদের জন্য? মা-বাবার আদর কি তবে টাকার সঙ্গে মাপে? সমাজ নির্বিকার। কেউ ভাবে না, কেউ শোনে না।  টেডির অভাবে মেয়েটির চোখে জল আসে, আর এক মুঠো খাবারের অভাবে পথশিশুর চোখের জল শুকিয়েও যায়। পা...

পলাশ ফুলের আগুন তোমার জন্য

Image
    পলাশ ফুলের আগুন তোমার জন্য ফাল্গুনের বাতাসে যখন প্রেমের উষ্ণতা মিশে যায়,  তখনই বন জ্বলে ওঠে পলাশের আগুনে।  তুমি কি জানো, এই আগুন শুধু প্রকৃতির নয়, আমার হৃদয়েরও? তোমার চোখের গভীরতায় আমি যে অনন্ত বসন্তের স্বপ্ন দেখি,  সেখানে রঙ মিশিয়ে দেয় লাল পলাশ।  তোমার হাসির উজ্জ্বলতা ছড়িয়ে পড়ে ফাগুনের আকাশে, সূর্যাস্তের মতো লালচে আলো হয়ে।  আমি পথ হাঁটি তোমার স্পর্শের অপেক্ষায়,  পলাশের বন জুড়ে, যেখানে বাতাসের প্রতিটি শিহরণ তোমার উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। তুমি কি অনুভব করো, আমার মনের ভেতর একটা নিরব দাবানল জ্বলছে?  যা শুধু তোমার এক ফোঁটা ভালোবাসার বৃষ্টিতেই শান্ত হতে পারে?  পলাশ যেমন ফাল্গুন এলে নিজেকে উৎসর্গ করে আগুনের রঙে,  আমিও তেমনি তোমার ভালোবাসায় নিজেকে বিলিয়ে দিতে চাই, নিঃশেষ হতে চাই তোমার স্পর্শে। তুমি এলে আমার বসন্ত পলাশ হয়ে ফোটে, তুমি গেলে আমার হৃদয় নিঃসঙ্গ শিমুলের মতো ঝরে পড়ে।  আসবে তো আবার? আমার হৃদয়ের আগুনে নতুন বসন্ত হয়ে?  পলাশ ফুলের মতো রঙ ছড়াবে তো ভালোবাসার প্রতিটি শাখায়?  আমি অপেক্ষায় আছি… তোমার জন্য, শুধু তোমার জন্য...